আজ ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মইজ্জ্যারটেকে আবাসিক হোটেলের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ

মোঃ সাইফুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকায় আবাসিক হোটেল ব্যবসার আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে রাফা আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে। হোটেলটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন অভিযোগ ওঠায় শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।গত ৩ নভেম্বর রাতে ওই হোটেল থেকে এক নারীকে আটক করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালী থেকে আসা ওই নারী (ছদ্মনাম তাসলিমা) চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে এক পুরুষের সঙ্গে মইজ্জ্যারটেকের রাফা আবাসিক হোটেলে ওঠেন। তাঁদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের খবর দেন। খবর পেয়ে সন্দেহভাজন ওই পুরুষ ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।পরে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী হোটেলে গিয়ে অভ্যর্থনায় নিয়োজিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন যুবক তাঁদের দিকে তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই নারীকে আটক করে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেলটিতে নিয়মিত সন্দেহজনক ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নারী-পুরুষের আনাগোনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, আবাসিক হোটেলের স্বাভাবিক কার্যক্রমের আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।এদিকে হোটেলটির উদ্বোধনী প্রচারণার ব্যানার কর্ণফুলী আব্দুল জলিল চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের প্রধান ফটকে লাগানোকে কেন্দ্র করেও এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কলেজের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোটেলে ওঠার সুযোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দেয়। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দিনের বেলায় হোটেলটিতে তেমন লোকজনের আনাগোনা চোখে পড়ে না। অথচ রাতের বেলায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে। হোটেলটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর আড়ালে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে কি না, তা প্রশাসনের তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।এলাকার কয়েকজন আলেম-ওলামা ও সচেতন ব্যক্তি বলেন, কর্ণফুলীর সামাজিক পরিবেশ ও তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। আবাসিক হোটেলের নামে কোনো অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।অভিযোগের বিষয়ে রাফা আবাসিক হোটেলের মালিক মোহাম্মদ আলম ও মোহাম্মদ সুমনের বক্তব্য নিতে হোটেলে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। পরে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে তদবিরের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমদ বলেন, বিষয়টি পুলিশ পর্যবেক্ষণে রেখেছে। কর্ণফুলীতে আবাসিক হোটেল ব্যবসার আড়ালে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপের সুযোগ দেওয়া হবে না। আটক নারীর বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর