আজ ২৪শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কর্ণফুলীতে সরকারি গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ

মোঃ সাইফুল ইসলাম কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গভীর রাতে রাস্তার পাশে থাকা সরকারি গাছ কেটে এবং বাউন্ডারি ভেঙে বালু দিয়ে জায়গা ভরাট করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কয়েকজন নেতাসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুনির আহমেদ সওদাগর সড়কসংলগ্ন এলাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি সরকারি গাছ কেটে ফেলা হয়। একই সময়ে একটি জায়গার বাউন্ডারি ভেঙে সেখানে বালু ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। এ ডব্লিউ আর রিয়েল এস্টেটের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যেই এসব করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা কিলার আবছার, এটিএম হানিফ, আবদুন নূর, আবছারের তিন ছেলে নজিবুল হক শাওন, মোঃ সজিব ও মোঃ সৌরভ, ভাগিনা মো. বেলাল এবং মোঃ রুবেল ওরফে ‘কিলার খাট্টা রুবেল’-এর নাম এসেছে। তাঁদের সঙ্গে জায়গাটির কেয়ারটেকার মোঃ আনিস এবং মোঃ মারুফ ও মোঃ সখিরের যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। গাছ কাটার জন্য স্থানীয় শওকত নামের এক ব্যক্তিকে ঠিকাদারি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সখির ও মারুফের সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহার করে নিরীহ মানুষের জমি দখলের চেষ্টা করা হতো। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর এখন বিএনপির কিছু নেতাকে ব্যবহার করে একই ধরনের জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।স্থানীয়দের আরও দাবি, এর আগেও মোঃ মারুফের বিরুদ্ধে পাশের একটি জায়গা থেকে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় বন বিভাগের তদন্তের পর তিনি লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন।চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুনির আহমেদ সওদাগর বলেন, স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।একই অভিযোগ করেন চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ দস্তগীর। তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, বিএনপির কয়েকজন নেতা ও মোহাম্মদ সখিরসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছিলেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এটিএম হানিফ। তিনি বলেন, তাঁরা মোঃ মারুফের কাছ থেকে বালু ভরাটের কাজ নিয়েছেন। গাছ কাটার সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন এবং গাছ কাটার সময় তাঁরা ঘটনাস্থলেও ছিলেন না।মোঃ মারুফ বলেন, তিনি একটি গাছ কাটার কথা জানেন। তবে জায়গাটি তিনি কেনেননি এবং কাউকে বালু ভরাটের অনুমতিও দেননি।এ ডব্লিউ আর রিয়েল এস্টেটের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শওকত বলেন, জায়গাটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। গাছ কাটা ও বাউন্ডারি ভেঙে বালু ভরাটের বিষয়টি তাঁরা জানতেন না। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা বলেন, বিষয়টি যাচাই করতে কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, কাটা গাছগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারা গাছ কেটেছে, তাঁদের নামসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দিতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ইউএনও আরও বলেন, তদন্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে সরকারি গাছ কাটার দায়ে সংশ্লিষ্ট আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর