আজ ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নামজারিতে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তে এসিল্যান্ড

মোঃ সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

কর্ণফুলীতে ভূমি অফিসের তহশীলদার ও সহকারীর বিরুদ্ধে হয়রানি ও অর্থ দাবির অভিযোগ চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে নামজারি-জমাভাগের কাজ করতে দুই মামলায় ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার জহির রায়হান ও তাঁর সহকারী হিসেবে পরিচিত ‘মো. শহীদ’-এর বিরুদ্ধে। এর আগে প্রতি ফাইলের বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে দাবি এবং ৬ হাজার টাকা পরিশোধের পরও হয়রানি ও সময়ক্ষেপণের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ লোকমান। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নবনিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফাকে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ লোকমানের অভিযোগ, তাঁর ও তাঁর ভাতিজি শিরিন আক্তারের পৃথক দুটি নামজারি-জমাভাগ মামলার ফাইল জমা দেওয়ার পর ‘শহীদ’ নামে ওই ব্যক্তি প্রতি মামলার বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে দাবি করেন। পরে তিনি প্রতি ফাইলে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। টাকা পাঠানোর বিকাশের স্ক্রিনশটও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন লোকমান।তাঁর অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে নামজারি-জমাভাগের কার্যক্রমে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে সরেজমিনে জমি পরিমাপের পরও কাগজপত্রে নানা ত্রুটি দেখিয়ে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তহশীলদার জহির রায়হান নামজারি হবে না—এমন হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি
লোকমানের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পর দুই মামলার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক বরাবরও অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। নবনিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য কর্ণফুলী উপজেলার নবনিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে পত্র প্রেরণ করা হবে।অভিযোগের বিষয়ে তহশীলদার জহির রায়হানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এর আগে তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগে উল্লিখিত ‘মো. শহীদ’-এর বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।এর আগে একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির একাধিক অভিযোগ ওঠার কথাও জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নিস্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি বা অনৈতিক অর্থ দাবির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর