মোঃ সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বন্যাকবলিত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্যাম্পগুলোতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বুধবার চারটি ইউনিয়নে, বৃহস্পতিবার আরও চারটি ইউনিয়নে এবং শনিবার বাকি তিনটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এসব ক্যাম্পে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নিয়ে সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করছেন।গত এক সপ্তাহ ধরে টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের পানিতে আনোয়ারার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। দীর্ঘ সময় পানিবন্দি থাকায় অনেক পরিবার দুর্ভোগে পড়ে। পানি নেমে যাওয়ার পর সাধারণত ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্মরোগ, পানিবাহিত সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত থাকায় অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্য ক্যাম্পে আগত রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ওরস্যালাইন, জ্বরের ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, চর্মরোগের ওষুধসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি পান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, খাবার নিরাপদ রাখা এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দি ছিলেন। পানি নেমে যাওয়ার পর ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বর, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ক্যাম্প চালু করেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে তাদের নিজ এলাকার কাছেই চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া, যাতে বিশেষ করে দরিদ্র ও বন্যাকবলিত মানুষকে হাসপাতালে এসে অতিরিক্ত কষ্ট করতে না হয়।তিনি আরও বলেন, বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কোনো এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply