মোহাম্মদ মাসুদ
চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখার চাঞ্চল্যকর চ্যালেঞ্জিং গোয়েন্দা অভিযানে সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক, Gmail হ্যাক, ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ/নগদে মানি ট্রান্সফার, পরে অনলাইন জুয়া ও গরু ব্যবসায় বিনিয়োগ; নানা কৌশল প্রতারণায় প্রতারণক চক্রের সিন্ডিকেট চক্রের মূলহোতা ইকবালসহ গ্রেপ্তার ২জন।আজ ৫জুন (শুক্রবার) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অপরাধচক্রের আটকের অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্য প্রকাশ করেন।সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখার তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্য সংবাদের ভিত্তিতে সক্রিয় অভিযানে অবশেষে অপরাধ চক্রের মূল হোতাকে ধরতে সক্ষম হয় চৌকস জেলা পুলিশ গোয়েন্দা শাখা পুলিশ । সাতকানিয়া থানার মামলা বিষয়টি পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা শাখা দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং পরীক্ষামূলকভাবে অভিযান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। ক্লান্ত পরিশ্রম ও চৌকস কার্যক্রমে অপরাধীদের ধরতে সক্ষম হয়।পুলিশ তথ্যে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল বিকালে দোকানে থাকা অবস্থায় সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা এলাকার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মোবাইল চালু হলে তিনি দেখতে পান তার ব্যবহৃত বিকাশ, নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপস মোবাইল থেকে উধাও হয়ে গেছে।কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ইউসিবি ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং বিকাশ/নগদ নম্বরে স্থানান্তর হয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বুঝতে পারেন যে তিনি একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের শিকার হয়েছেন।এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় মামলা রুজু হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত শুরু করে। ডিজিটাল বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মোঃ ইকবালসহ অন্যান্য সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা উদ্ঘাটিত হয়।পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চক্রটির প্রধান মোঃ ইকবালসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি ল্যাপটপ, ৪টি মোবাইল ফোন, ১৮টি বিকাশ রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম, ৮টি ব্যাংক চেক বই, ৩টি ব্যাংক কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চক্রটি প্রথমে ভুক্তভোগীদের Gmail ও অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করত। এরপর ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অর্থ স্থানান্তর করত। আত্মসাৎকৃত অর্থ একাধিক স্তরে স্থানান্তরের মাধ্যমে আড়াল করে পরবর্তীতে অনলাইন জুয়া, গরু ব্যবসা এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহার করা হতো।চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। চক্রের প্রধান ইকবালের বিরুদ্ধে ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় একই ধরনের অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। সহযোগী রুবেলের বিরুদ্ধেও প্রতারণা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, প্রতারকরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে ১,০০০-২,০০০ টাকার বিনিময়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ও সিম সংগ্রহ করে অবৈধ লেনদেনে ব্যবহার করত।পরে বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ ক্যাশ আউট করে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করত।সাইবার প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তায় বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
Leave a Reply