আজ ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কর্ণফুলীতে মসজিদ পরিচালনা নিয়ে উত্তেজনা, ‘মিথ্যা মামলার’ অভিযোগে মুসল্লিদের মানববন্ধন

মোঃ সাইফুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর ফাজিল খাঁর হাট এলাকার বায়তুল মাহমুদ জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে মানববন্ধন করেছেন মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের আর্থিক হিসাব প্রকাশ, মসজিদের সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, প্রায় ২০ বছর ধরে একই কমিটি মসজিদ পরিচালনা করলেও কখনো নিয়মিতভাবে মুসল্লিদের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনায়ও অনিয়ম রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মসজিদের একটি জমি সাবেক সভাপতি শওকত নিজের নামে নামজারি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত মুসল্লিদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকেই ওই কমিটির সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।তাদের দাবি, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর পুলিশের উপস্থিতিতে কয়েকজন বহিরাগত মসজিদ কমিটির সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পরে একই পক্ষ আদালতে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মানববন্ধনে দাবি করা হয়।বক্তারা বলেন, “মসজিদ আল্লাহর ঘর। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম, অস্বচ্ছতা বা ব্যক্তিস্বার্থের সুযোগ থাকতে পারে না। আমরা চাই, দীর্ঘদিনের সব আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হোক, মসজিদের সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বায়তুল মাহমুদ জামে মসজিদের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. আলী, সেক্রেটারি মো. নাসিম, সহ-সেক্রেটারি মাওলানা শাহাদাৎ, অর্থ সম্পাদক মফজল আহমদসহ সাবের, বাবুল, হাসান, আজিজ, সাইফুল, হাশেম, ইলিয়াস এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর