আজ ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গ্যাস ও অ্যামোনিয়া সংকট কাটিয়ে ২১ দিন পর উৎপাদনে ফিরল আনোয়ারার ডিএপি সার কারখানা

মোঃ সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রাম
দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাংগাদিয়া এলাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের দুটি প্ল্যান্ট। গ্যাস ও অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে পড়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সার কারখানায় শনিবার (৯ মে) দুপুর ২টা থেকে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-এ পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় ডিএপি কারখানায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। প্রয়োজনীয় মজুদ ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার থেকে আবারও উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হয়েছে।তিনি বলেন, “বর্তমানে অ্যামোনিয়ার সংকট কিছুটা কেটেছে। তবে উৎপাদন কতদিন স্বাভাবিক রাখা যাবে, তা নির্ভর করছে কাফকোর উৎপাদন পরিস্থিতির ওপর।”সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সার কারখানা— চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পেয়ে থাকে ডিএপি-১ ও ডিএপি-২ প্ল্যান্ট। কিন্তু গত ৪ মার্চ সরকারি নির্দেশনায় গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকোর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে ডিএপি কারখানাও সংকটে পড়ে।প্রথমদিকে মজুদ থাকা অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে প্রায় দেড় মাস উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও গত ১৮ এপ্রিল রাতে সেই মজুদ শেষ হয়ে যায়। ফলে ডিএপি কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে দেশের কৃষিখাতে যৌগিক সারের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।পরবর্তীতে গত ২ মে থেকে কাফকোতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হলে ডিএপি কারখানায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে। কয়েকদিনের প্রস্তুতি শেষে শনিবার পুনরায় চালু করা হয় কারখানাটির দুটি প্ল্যান্ট।তবে এখনো চালু হয়নি সিইউএফএল সার কারখানা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে আবারও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি দেশের কৃষিখাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া কারখানাটির দুটি ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ডিএপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিএপি কারখানার পুনরায় উৎপাদনে ফেরা দেশের চলমান কৃষি মৌসুমে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর