আজ ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কানাইমাদারী জায়নুল উলুম মাদরাসায় নতুন মুহতামিম ও নির্বাহী মুহতামিম নিয়োগ

মোঃ সাইফুল ইসলাম, (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কানাইমাদারী জায়নুল উলুম মাদরাসার নীতিনির্ধারণী ফোরাম (মজলিসে শুরা) নতুন মুহতামিম, নির্বাহী মুহতামিম ও উপদেষ্টা মুহতামিম নিয়োগসহ শিক্ষা, প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।গত ২৫ জুন দুপুর ১২টায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত শুরা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম আল্লামা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী।সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম আল্লামা একরাম হোসাইন ওয়াদুদীকে কানাইমাদারী জায়নুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম, মাওলানা মুকাদ্দেস কুতুবীকে নির্বাহী মুহতামিম এবং মাওলানা তাজুল ইসলামকে সদর মুহতামিম (উপদেষ্টা মুহতামিম) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।একই সভায় মাদরাসার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী (আমেলা) কমিটি এবং তিন সদস্যের অর্থসংক্রান্ত অডিট কমিটি গঠন করা হয়।অডিট কমিটিতে দায়িত্ব পান কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিসের হিসাব নিরীক্ষক মাওলানা জাফর সাদেক, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা হামিদুল্লাহ এবং জায়নুল উলুম মাদরাসার শিক্ষক ও হিসাবরক্ষক মাওলানা মুজিবুর রহমান।কার্যনির্বাহী (আমেলা) কমিটিতে রয়েছেন আনোয়ারা কাফকো জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আবুল হোসাইন, মাওলানা মুকাদ্দেস কুতুবী, মাওলানা হাফেজ নুর হোসাইন, মাওলানা হামিদুল্লাহ এবং মাদরাসার দায়িত্বরত নাজেমে তালিমাত।মজলিসে শুরার সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আল্লামা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মুফতি আবুল হোসাইন, বশরত নগর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা হাফেজ এমদাদ, আল-জামিয়া পটিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাহেদুল্লাহ, মাওলানা হাফেজ নুর হোসাইন, বরকল ফয়জিয়া মাদরাসার সহকারী পরিচালক মাওলানা আনিসুর রহমান, মাওলানা আনোয়ারুল হাকিম, মাওলানা তাজুল ইসলাম এবং মাওলানা মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ।এছাড়া সভাপতির অনুমতিক্রমে মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, মাওলানা তারেক, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন নয়ন ও হাফেজ আরমান।সভায় মাদরাসার গত ৩৮ বছরের শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক অগ্রগতি, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শৃঙ্খলা জোরদার, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বেশ কয়েকটি সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।বক্তারা বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার মান ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত মাদরাসার নীতিনির্ধারণী কমিটির এ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। তাঁদের আশা, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, প্রশাসন ও সেবার ক্ষেত্রে নতুন গতিশীলতা অর্জন করবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর