মোঃ সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে চলছে বিরল পরিস্থিতি একই মাদ্রাসায় দুই অধ্যক্ষ, দুই অফিস কক্ষ, এমনকি শিক্ষকদেরও দুই ভাগে বিভক্ত উপস্থিতি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার পরিবেশ ও মানের ওপর।উপজেলার চুন্নাপাড়া মুনিরুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসায় দেখা গেছে, দুই পক্ষের শিক্ষকরা আলাদা কক্ষে বসে অফিস করেন এবং হাজিরা খাতায়ও পৃথকভাবে স্বাক্ষর দেন। তবে মাস শেষে বেতন-ভাতা তুলছেন সবাই একসঙ্গে। দীর্ঘদিনের এ অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানও ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তৎকালীন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন হাশেমীকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। পরে শেখ কামাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু অপসারণের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে হাশেমী হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।এরই মধ্যে পরিচালনা কমিটি নিয়েও নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন হাশেমী স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাকে সভাপতি করে ছয় মাসের জন্য একটি এডহক কমিটি অনুমোদন করান। পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওই কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে গেলে আদালত আগামী ৭ মে পর্যন্ত কমিটির কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যাওয়ার পরও সাবেক অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন হাশেমী এখনো অধ্যক্ষের কক্ষ দখল করে বসে আছেন বলে অভিযোগ। এতে করে প্রশাসনিক জটিলতা আরও বেড়েছে।এ বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন হাশেমী বলেন, শিক্ষকরা ক্লাস করেন কি না, সেটা আগে দেখা উচিত। এখানে শুধু হাজিরা খাতা আলাদা। আমি অবসরে গেছি, অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে নয়—তাই এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ কামাল হোসেন জানান, একটি পক্ষ আমাদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে না। আলাদা হাজিরা বই ব্যবহার করছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানলে সবার বেতন বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এ কারণে এতদিন সমন্বয় করে চলেছি। তবে এখন সবাইকে একসাথে হাজিরা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, না হলে আগামী মাস থেকে বেতন শীটে স্বাক্ষর করা হবে না।এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী এম এ হাসান গত ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, “অবসরে যাওয়ার পরও অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে থাকা অবশ্যই অনিয়ম। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত এ বিরোধের সমাধান না হলে দীর্ঘদিনের সুনামধন্য এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply