আজ ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনে১১ দলীয় জোট প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাইফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম)
জামায়াতের কাছে ৮৫ লক্ষ টাকা নির্বাচনী খরচ দাবী খেলাফত মজলিশ প্রার্থী ইমরান ইসলামাবাদী
চট্টগ্রাম ১৩ আনোয়ারা – কর্ণফুলী আসনের খেলাফত মজলিশ প্রার্থী ইমরান ইসলামাবাদীর গত জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘটনা নিয়ে একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় তিনি একাধিক সংবাদ মাধ্যমকে পারিবারিক কারণে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা বললেও এখন জামায়াতে ইসলামী তাকে জোর করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করান বলে দাবী করছেন।মনোনয়ন প্রত্যাহার করে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে ৮৫ লক্ষ টাকা দাবী করেছে বলে জানা গেছে । জামায়াতের পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিশ প্রার্থী ইমরান ইসলামাবাদীকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরও বাকী টাকা দিতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন বলে জানা যায়। এসব বিষয় নিয়ে খেলাফত মজলিশ প্রার্থী ইমরান ইসলামাবাদী গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী আনোয়ারা- কর্ণফুলী উপজেলা শাখার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে নানা ধরণের মন্তব্য করে যাচ্ছে। বিষয়টা নিয়ে পুরো উপজেলায় আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো.ইমরান ইসলামাবাদী মুঠোফোনে জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিশকে (দেওয়াল ঘড়ি) সারাদেশে ১০ টি আসন দেওয়া হয়। এর মধ্যে আনোয়ারা -কর্ণফুলীও একটা। আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও এই আসনের জামায়াত নেতৃবৃন্দরা আমাকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করে। আমি রাজি না হলে আমার বড় ভাই জাকারিয়ার মাধ্যমে আমাকে চাপ দিতে থাকে। সর্বশেষ তারা আমাকে জোরপূর্বক মনোনয়ন প্রত্যাহার করায়। কিন্তু আমি জোটের দিকে চেয়ে সবার সামনে,মিডিয়ার সামনে আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণের কথা বলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা জানাই। মনোনয়ন নেওয়া থেকে প্রত্যাহার পর্যন্ত আমার ৮৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এই খরচ জামায়াতে ইসলামী থেকে আমাকে দিবে বলেছে। এখানে আমার বড় ভাইসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আমাকে নির্বাচনের আগে ৫ লক্ষ টাকা দিলেও বাকী টাকা নিয়ে টালবাহানা করছে। তাছাড়া একটা রাজনৈতিক ঘটনাকে পারিবারিক ঘটনায় পরিণত করে আমাদের পরিবারের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করে দিয়েছে। আমার বড় ভাই আমাকে ঘরে ঢুকতে দিচ্ছেনা। আমাকে মারধর করেছে।
আনোয়ারা -কর্ণফুলী জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা মহানগর জামায়াত নেতা ইয়াছিন আহমেদ জানান, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ইমরান ইসলামাবাদীকে মনোনয়ন পাওয়ার আগে এলাকায় কেউ চিনতনা। তিনি এলাকায় কোনো গণ সংযোগও করেননি। তাদের সাংগঠনিক কোনো ভিত্তিও নেই। তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসার মত ১১দলীয় জোটের মনোনয়ন লাভের পর তার বড় ভাই মোঃ জাকারিয়া ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দদেরকে সাথে নিয়ে ওনার বাসায় একটি বৈঠক হয়। উক্ত বৈঠকে তারা নির্বাচনে প্রয়োজনীয় জনসমর্থন, লোকবল সংকট , নির্বাচন করার ব্যাপারে তাদের মায়ের অসম্মতি এবং নির্বাচনে প্রয়োজনীয় খরচ করার অপারগতা স্বীকার করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। যথারীতি মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত দিনে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ডিসি অফিসে গিয়ে মনোনয়নষ প্রত্যাহার করেন। তিনি এ বিষয়টি বিভিন্ন সাংবাদিকদের কে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরীর সমর্থনে বিভিন্ন এলাকায়, উঠান বৈঠকে , জনসভায় দাড়িপাল্লার পক্ষে স্বতঃস্ফূর্ত প্রচারণায় অংশ নেন। তার আবদারের কারণে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করার জন্য সংগঠন তার জন্য একটি গাড়িও বরাদ্দ দেয়। কিছুদিন পর ইমরান ইসলামাবাদী আমাদের একজন দায়িত্বশীলের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পুরস্কার হিসেবে ৮৫ লক্ষ টাকা দাবি করে আসছে । তার এই অনৈতিক কার্যকলাপ খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দের নজরে আসায় তাকে খেলাফত মজলিস থেকে বহিষ্কার করে। গতকাল থেকে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের বিভিন্ন দায়িত্বশীলদের নামে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করতে থাকে। যা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। আমার প্রশ্ন যেখানে একজন প্রর্থী মনোনয়ন পাওয়ার আগে একদিনের জন্যও এলাকায় গণসংযোগ করেননি তার ৮৫ লক্ষ টাকা কীভাবে খরচ হয়। আমি ইমরান ইসলামাবাদীর দৃষ্টান্তমূলক এহেন অনৈতিক ও অযোক্তিক কর্মকান্ডের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও দক্ষিণ জেলাজামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী জানান, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ইমরান ইসলামাবাদীর সাথে কী কথা হয়েছে সেটা আমি জানিনা। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিনতিনি গণমাধ্যমকে তার মা নিষেধ করার কারণে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা বলেছিলেন।এরপর তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছিলেন। আমার পক্ষে গণ সংযোগ করেছিলেন। এজন্য আমি তাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। এতূিন পর তিনি এসব কথা কেন বলছেন বা তার সাথে দলের কোনো কথা হয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর