মোঃ সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
সন্ধ্যা নামলেই বদলে যায় পরিবেশ। দিনের কোলাহল থেমে আসতেই শুরু হয় অপরিচিত মানুষের আনাগোনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্ধকার ঘনিয়ে এলেই বসে মাদকের বেচাকেনার হাট। ইয়াবা, গাঁজা ও বাংলা মদের কেনাবেচা ও সেবনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের চাপাতলী ও ছিরাবটলী গ্রামের বাসিন্দারা। আর এই কারবারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে হামলা, হুমকি ও মারধর—এমন অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, বটতলী ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলাশাহ মাজারসংলগ্ন চাপাতলী ও ছিরাবটলী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের প্রবণতা বেড়েছে। ভোলাশাহ মাজার থেকে মিন্নত আলী দোভাষী বাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে মাদক কারবার পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এলাকাবাসীর ভাষ্য, বহিরাগত কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় বাসা ভাড়া নিয়ে মাদক কারবার চালাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় বেড়ে যায় অপরিচিত মানুষের চলাচল। বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবনের আসরও বসে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।মাদক শুধু একটি এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে না, এর প্রভাব পড়ছে পরিবার ও তরুণ প্রজন্মের ওপরও—এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের বিষয়টি নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন হলেও প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়ছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় এক প্রবাসীর ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এরপর থেকে ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না।এক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষায়, মাদক বন্ধের কথা বলব, সেটাও যেন এখন ভয় পাওয়ার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক কারবারের সঙ্গে কারা জড়িত, কোথা থেকে মাদক আসছে এবং কারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে—এসব খুঁজে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, আনোয়ারার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছিরাবটলী এলাকাতেও মাদক কারবারিদের ধরতে অভিযান চালানো হবে।
Leave a Reply