আজ ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তিন মাসে ডেঙ্গু রোগী শূন্যে নামানোর লক্ষ্য, আনোয়ারায় জানালেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

আনোয়ারা প্রতিনিধি:

আগামী তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মশক নিধন, বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জেলা প্রশাসক বলেন, সাম্প্রতিক দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। একইভাবে সবাই একযোগে কাজ করলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। এ জন্য প্রত্যেকের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আনোয়ারা থানার চারপাশেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অতিথিরা আনোয়ারা থানা পুকুরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের অভিযানে অংশ নেন। পরে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তাঁরা।এ সময় আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের একান্ত সহকারী আখতার নবী চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী জকু, এম মঞ্জুর উদ্দিন চৌধুরী, হুমায়ুন কবির চৌধুরী আনসার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জাহেদসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে আনোয়ারা উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত কর্মপরিধির বাইরে গিয়ে জনসেবায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।জেলা প্রশাসক বলেন, জনবহুল ও দরিদ্র এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হলে কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দাপ্তরিক কাজের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে ছুটির মানসিকতা পরিহার করে প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, আইনের নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও মানুষের কথা শুনতে হবে এবং তাঁদের সঠিক পথ দেখাতে হবে। অতীতে প্রশাসন নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, তা কাজের মাধ্যমে দূর করতে হবে। প্রশাসনকে জনগণের আস্থার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।সরকারি অর্থের অপচয় রোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয় করতে হবে এবং প্রতিটি প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব এমন বিশ্বাস সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি করতে হবে।সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক  শিক্ষা পাঠান মো.সাইদুজ্জামান   ,আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু জাফর চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট হস্তান্তর করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর