মোঃ সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ভাড়া বাসার বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে আনোয়ারার ২৪ বছর বয়সী যুবক মো. হাসানের মরদেহ। রহস্যজনক এ মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তুলেছে তাঁর পরিবার। স্বজনদের দাবি, হাসানকে হত্যা করে মরদেহ পাখার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী শেফালী আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে পরিবার। ঘটনার পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি স্বজনদের। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কর্ণফুলী উপজেলার খোয়াজনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাড়ির মালিকের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। নিহত হাসান আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের চৌমুহনী ফকিরনীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় মো. সেলিমের ছেলে। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।হাসানের বোন দিলোয়ারা বেগমের অভিযোগ, তাঁর ভাইকে হত্যা করে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় হাসানের পা খাটের সঙ্গে ভাঁজ করা অবস্থায় ছিল বলে দাবি করেন তিনি। দিলোয়ারার ভাষ্য, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হতে পারে বলে দাবি পরিবারের।পরিবার সূত্রে জানা যায়, হাসানের প্রথম সংসারে একটি মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। কয়েক মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে হাসান কাউকে না জানিয়ে শেফালী আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন বলে পরিবারের দাবি। এরপর তাঁরা কর্ণফুলীর খোয়াজনগর এলাকার আবছার নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। শেফালী আক্তারের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায়।কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Leave a Reply