মোঃ সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
স্কুলজীবনের বন্ধুত্বের বয়স প্রায় তিন দশক। সময়ের ব্যবধানে বন্ধুরা ছড়িয়ে পড়েছেন দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে। কেউ হারিয়েছেন নিয়মিত যোগাযোগ, কেউ ব্যস্ত হয়েছেন জীবনের প্রয়োজনে। তবে পুরোনো সেই বন্ধুত্বের টানেই আবার এক ছাদের নিচে মিলিত হলেন বখতিয়ার পাড়া চারপীর আউলীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৬ ব্যাচের বন্ধুরা। আনন্দ, স্মৃতিচারণ ও আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাদের পুনর্মিলনী। একই আয়োজনে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘৯৬ ব্লাড ডোনার ফাউন্ডেশন’।
আমেরিকা প্রবাসী ১৯৯৬ ব্যাচের বন্ধু মোস্তাক নবীর দেশে ফেরাকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁর ব্যবস্থাপনায় এ পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ আট বছর পর দেশে ফিরে সহপাঠীদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। আর প্রিয় বন্ধুকে দীর্ঘদিন পর কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন সহপাঠীরাও। পুরোনো দিনের স্মৃতি, স্কুলজীবনের নানা ঘটনা ও বন্ধুত্বের গল্পে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে আয়োজন।১৯৯৬ ব্যাচের বন্ধু দীল মোহাম্মদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আজগর হোসেন, শওকত আইয়ুব, শাহ্ নুর, লেয়াকত ও মোজাফফরসহ ব্যাচের অন্যান্য বন্ধুরা।বক্তারা বলেন, সময় ও জীবনের ব্যস্ততা মানুষকে দূরে সরিয়ে দিলেও স্কুলজীবনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক সহজে মুছে যায় না। দীর্ঘদিন পর এই পুনর্মিলনী বন্ধুদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। একই সঙ্গে বন্ধুত্বের এই বন্ধনকে সামাজিক ও মানবিক কাজে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘৯৬ ব্লাড ডোনার ফাউন্ডেশন’-এর উদ্বোধন। মুমূর্ষু রোগীদের প্রয়োজনে স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ফাউন্ডেশনটির যাত্রা শুরু হয়েছে। নিজেদের বন্ধনকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান অনুষ্ঠানে উপস্থিত বন্ধুরা।পুনর্মিলনী ঘিরে পুরো আয়োজন পরিণত হয় স্মৃতি ও আবেগের মিলনমেলায়। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে হয়ে কেউ ফিরে যান কৈশোরের সেই দিনগুলোতে, কেউবা পুরোনো বন্ধুর মাঝে খুঁজে পান হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্পর্শ।সময় মানুষকে দূরে নিয়ে যায়, বদলে দেয় জীবনের অনেক হিসাব। কিন্তু স্কুলজীবনের বন্ধুত্বের স্মৃতি থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে। বখতিয়ার পাড়ার ১৯৯৬ ব্যাচের এই পুনর্মিলনী সেই পুরোনো বন্ধনকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি মানবিকতার পথে একসঙ্গে চলার অঙ্গীকারও হয়ে থাকল।
Leave a Reply