আজ ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঠিকাদারের কাজ বন্ধ, এমপির নির্দেশে বিএনপি নেতার অর্থায়নে সড়ক মেরামত

মোঃ সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
হাজারী সড়কে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা এমপি মহোদয়কে জানালে তিনি জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের জন্য আমাকে বলেন। তাই নিজস্ব অর্থায়নে সড়কের মেরামতকাজ শুরু করেছি।কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক বরুমচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউনুছ চৌধুরী। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের নির্দেশে বরুমচড়া হাজারী সড়কের জরুরি মেরামতকাজ শুরু হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশে মেরামতকাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় বৃষ্টি ও যানবাহনের চাপে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েছিলেন সড়কটি ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দাসহ হাজারো মানুষ। মেরামতকাজ শুরু হওয়ায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর বরুমচড়া হাজারী সড়কের এক কিলোমিটার অংশ কার্পেটিংয়ের জন্য প্রায় ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদার মো. আমিন কাজটির দায়িত্ব পান। পরে তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজের দায়িত্ব দেন।
সাব-ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, তাঁরা প্রায় ৬৪ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করেছেন। এর বিপরীতে এলজিইডি অফিস থেকে বিল পেয়েছেন মাত্র ৬ লাখ টাকা। তাঁদের ভাষ্য, বিটুমিনসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিল পরিশোধে জটিলতা থাকায় কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
জেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং ঠিকাদারদের কাজ করতে অপারগতার কারণে চট্টগ্রামে এলজিইডির আওতাধীন ১০৭টি সড়কের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ারার সাতটি সড়ক রয়েছে। বরুমচড়া হাজারী সড়কও ওই তালিকায় রয়েছে।যুবদল নেতা আহমদ নুর বলেন, ঠিকাদাররা বিল না পাওয়ায় কাজ ফেলে রেখে চলে গেছেন। বৃষ্টিতে হাজারী সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। বিষয়টি সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের নজরে গেলে তাঁর নির্দেশে জরুরি মেরামতকাজ শুরু করা হয়েছে। এমপি মহোদয় বলেছেন, জনগণের ভোগান্তি আগে দূর করতে হবে।সড়ক মেরামতকাজ শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ ইউনুছ চৌধুরী, মোহাম্মদ আনিছুর রহমান চৌধুরী, আহমদ নুর, মোহাম্মদ আবুল কাসেম সাওদাগর, মোহাম্মদ সেন্টু, মোহাম্মদ কামাল মাস্টার, মোহাম্মদ জামাল, মোহাম্মদ ওসমান, মোহাম্মদ মনিরসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম বলেন, বরুমচড়া হাজারী সড়কসহ আনোয়ারার সাতটি সড়কের কাজ ঠিকাদাররা না করায় টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। শিগগিরই এসব সড়কের জন্য নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জরুরি মেরামতের ফলে আপাতত চলাচলের দুর্ভোগ কমলেও সড়কটির স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত নতুন টেন্ডার আহ্বান করে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করা প্রয়োজন। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন সড়কটি ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর