মোঃ সাইফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম)
বন্যার ক্ষত শুকানোর আগেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমান ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম (উইং)। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে সংগঠনের পক্ষ থেকে অর্থসহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রবাসে থেকেও দেশের দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।সংগঠনের সভাপতি সিআইপি নেচার উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সিআইপি নুরুল আমিন ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে অর্থসহায়তা তুলে দেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ দেলোয়ার আজিম, প্রগ্রেসিভ ফ্রেন্ডসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ হেলাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য মোহাম্মদ শফিউল আলম, ছাত্রদল নেতা মোঃ মোরশেদ ও মোঃ সাকিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।সহায়তা প্রদানকালে সিআইপি নেচার উদ্দিন বলেন, আমরা প্রবাসে থাকি, কিন্তু দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্ট থেকে দূরে নই। বন্যায় আপনাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করার সামর্থ্য হয়তো আমাদের নেই। তবে কষ্টের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনেও সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমান ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম (উইং)-এর সাধারণ সম্পাদক সিআইপি নুরুল আমিন বলেন, বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের একা ভাবার কোনো কারণ নেই। আমরা আপনাদের পাশে আছি। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তেমনি দুর্যোগের সময় প্রবাসীরা মানবিক সহায়তা নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ দেলোয়ার আজিম বলেন, যারা ত্রাণ বা সহায়তা নিয়ে আসবেন, তারা শুধু রাস্তার পাশে বিতরণ না করে একটু ভেতরে যাবেন। অনেক পরিবারের বাড়িঘর নষ্ট হয়েছে, অনেকে সর্বস্ব হারিয়েছেন। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।তিনি আরও বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলেই মানুষের দুর্ভোগ শেষ হয় না। ঘরবাড়ি মেরামত, খাবার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রয়োজন হয়।প্রগ্রেসিভ ফ্রেন্ডসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিন বলেন, বন্যার পর অনেক মানুষ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অতি শিগগিরই একটি ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, চিকিৎসকদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হবে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার পানি কমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগছে। অনেক পরিবারের আয়-রোজগারের পথও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।এ অবস্থায় শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত, চিকিৎসা, শিক্ষা উপকরণ ও জীবিকা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমান ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম (উইং)-এর নেতারা জানান, বাঁশখালীর বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।
Leave a Reply