আজ ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১২৯ বারেও সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি যা নজিরহীন – সোহাগ আরেফিন

চট্টগ্রাম কণ্ঠ : ডেস্ক 

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়েছে। নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় এবার ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।এই নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা ১২৯তম বার পেছালো।গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম।২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ শুরু করে। চার দিন পর তদন্তভার যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। দুই মাসের বেশি সময়েও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।দীর্ঘ সময় র‌্যাব তদন্ত করেও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে না পারায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‌্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও ছিল।এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়। বর্তমানে এই টাস্কফোর্সের অধীনেই মামলাটির তদন্ত চলছে।তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ায় আদালতের কাছ থেকে একাধিকবার সময় নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেয়।
বিএমইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আরেফিন বলেন ১২৯ বারেও সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি যা সত্যি নজিরহীন তবে সারাদেশের সাংবাদিকসহ সাগর-রুনির কাছের মানুষেরা হতাশার মাঝেও এখনো অপেক্ষায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিচার দেখবার জন্য।মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তানভীর রহমান খান।তানভীর রহমান খান জামিনে আছেন। নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পালও জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক। বাকি আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর