আজ ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অবহেলিত পশ্চিম বরৈয়ায় গৌরবের উৎসব, এক মঞ্চে সম্মানিত বিসিএস ক্যাডারসহ কৃতী সন্তানেরা

মোঃ সাইফুল ইসলাম আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পশ্চিম বরৈয়া গ্রামবাসীর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রমধর্মী গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা, প্রশাসন, চিকিৎসা, আইন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখা এলাকার গুণী ও সফল ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এ আয়োজন করা হয়।শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে পশ্চিম বরৈয়া হাজী সালেহ আহমদ কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রবাসী ও বিশিষ্টজনদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আব্দুল শুক্কুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন মো. হাফেজ। বক্তব্য দেন মো. ইসহাক, রূপন কান্তি শর্মা, অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দিন, মো. সোলাইমান, মাওলানা জয়নাল আবেদীন, মো. ইসমাইল সর্দার এবং সম্প্রতি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. আলমগীর। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মো. নঈম উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন ও আনোয়ার হোসেন বাবুল।সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল শুক্কুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম বরৈয়া একটি অবহেলিত গ্রাম হিসেবে পরিচিত হলেও এ গ্রামের বহু মেধাবী সন্তান শিক্ষা, প্রশাসন, চিকিৎসা, আইন, ধর্মীয় শিক্ষা ও বিভিন্ন পেশায় সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এলাকার সুনাম বৃদ্ধি করছেন। তাদের এই অর্জন শুধু পরিবারের নয়, পুরো গ্রামের গর্ব। গুণীজনদের সম্মানিত করার এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রেখে এলাকার মেধাবী ও কৃতী সন্তানদের মূল্যায়ন করা হবে।
প্রধান বক্তা মো. হাফেজ বলেন, একটি সমাজের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার শিক্ষিত, সৎ ও আদর্শবান মানুষ। যারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে মেধা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সফলতা অর্জন করেছেন, তাদের সম্মান জানানো নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি বলেন, পশ্চিম বরৈয়ার মতো একটি প্রত্যন্ত জনপদ থেকে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার, চিকিৎসক, আইনজীবী, পুলিশ কর্মকর্তা, কোরআনের হাফেজ, খতিবসহ বিভিন্ন পেশায় কৃতী ব্যক্তিদের উঠে আসা প্রমাণ করে, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে গ্রামবাংলার সন্তানরাও জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করতে পারে।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি গ্রামের প্রকৃত পরিচয় তার শিক্ষিত ও আদর্শবান মানুষ। গুণীজনদের সম্মানিত করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধের চর্চা বৃদ্ধি পায় এবং নতুন প্রজন্ম বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত হয়। তারা আরও বলেন, পশ্চিম বরৈয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন ছিল এ গ্রাম থেকে একজন বিসিএস ক্যাডার বের হবে। সম্প্রতি মো. আলমগীর বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এটি শুধু একজনের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, পুরো এলাকার গর্ব ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।সংবর্ধিত অতিথিদের মধ্যে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. আলমগীর বলেন, প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, “আমার যাত্রাপথে অনেকেই মাঝপথে থেমে গেছেন। কিন্তু আমি কখনো হাল ছাড়িনি। আমার বাবা-মায়ের ত্যাগ, পরিবারের অনুপ্রেরণা এবং বিশেষ করে আমার শিক্ষক পিটু স্যারের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা না থাকলে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। এলাকার মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”অনুষ্ঠানের শেষে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার, চিকিৎসক, আইনজীবী, পুলিশ কর্মকর্তা, কোরআনের হাফেজ, খতিবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখা গুণী ব্যক্তিদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, মেধাবীদের উৎসাহিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে,শিক্ষা,মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের মতে,এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পশ্চিম বরৈয়ার শিক্ষা,সামাজিক ঐক্য ও মেধার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর