আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কর্ণফুলীতে বাতামতল খাল মৃতপ্রায়: দখল-দূষণে বিপর্যস্ত পানি নিষ্কাশন, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

মোঃ সাইফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন পথ বাতামতল খাল দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যার ফলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, খালজুড়ে প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালির বর্জ্যের স্তূপ। বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় খালের প্রস্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে পানি চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে, সামান্য বৃষ্টিপাতেই পানি উপচে সড়ক ও আশপাশের বসতঘরে ঢুকে যাচ্ছে।বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলে হাঁটুসমান পানি দিনের পর দিন জমে থাকছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করছেন। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পানির মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে বিদ্যালয়ে, অনেককে আবার সড়কে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করতে দেখা গেছে।দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ডায়রিয়া, কলেরা ও চর্মরোগের মতো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। অনেক স্থানে টিউবওয়েল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে।স্থানীয় বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন,বছরের পর বছর খালে অবাধে ময়লা ফেলা হচ্ছে। কোনো কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। দখল আর ভরাটে খালের অস্তিত্বই সংকুচিত হয়ে গেছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই আমাদের একই কষ্ট ভোগ করতে হয়।স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ জুয়েল জানান,কয়েক বছর আগে খালটি একবার পরিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা বলেন,এভাবে পানি জমে থাকলে মশাবাহিত ও পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি বড় ঝুঁকি।এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজিব কান্তি রুদ্র জানান, খাল খননের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী মাস থেকে খনন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য খালও সংস্কারের আওতায় আনা হবে।স্থানীয় পরিবেশবিদরা বলছেন, শুধু খনন নয়—দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর নজরদারিও জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর