২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আনোয়ারায় গভীর রাতে আগুনে পুড়ল তিন বসতঘর, ক্ষতি ৯ লাখ টাকা

প্রকাশিত হয়েছে-

মোঃ সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে নগদ টাকা, ধান, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামালসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার আগে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠলেও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।রোববার (১ নভেম্বর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাসখামা ১০ নম্বর এলাকার আলীমিয়ার বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, জামাল আহমদের ঘরে থাকা প্রায় ৫০ আড়ি ধান, নগদ ৭০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে আনুমানিক ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মৃত নজরুল ইসলাম প্রকাশ সোনা মিয়ার বসতঘরে প্রায় ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং আবুল মনসুরের ঘরে প্রায় ৪ লাখ টাকার আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য আকিব জানান, ঘটনার রাতে প্রতিবেশী কয়েকজন তাদের বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে। পরদিন সকাল ১১টায় থানায় গিয়ে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।আকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে তাদের চাচাতো ভাই আবুল মনসুরের ঘরের পূর্ব পাশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের বসতঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তার ছোট ভাই রাকিব আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। ততক্ষণে আগুনে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে যায়।অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রাকিব জানান, চিকিৎসার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এর আগে দুটি এনজিও থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিস্তি পরিশোধের জন্য ওই টাকা বিছানার বালিশের নিচে রাখা ছিল। হঠাৎ গরম অনুভব করে ঘুম থেকে উঠে আগুন দেখতে পান। বাইরে থেকে আগুন আগুন চিৎকার শুনে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর আর ঘরে প্রবেশ করার সুযোগ পাননি।রাকিব বলেন, আগুনে নগদ টাকা, ধান ও আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। বাবা মারা যাওয়ার পর দুই ভাই অনেক কষ্টে জীবন চালাচ্ছেন। এখন নিজের চিকিৎসা ও এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে চিকিৎসা করব, কীভাবে কিস্তির টাকা পরিশোধ করব? আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ্ব আবুল কালাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে, তা তিনি দেখেননি। তবে আগুনে তার ঘরের কিছু অংশ ও বিদ্যুতের মিটার পুড়ে গেছে। তিনিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুনায়েত চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।