১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উম্মুলক্বোরা মহিলা একাডেমিতে দুই শিক্ষার্থীর হিফজ সমাপনী ও দোয়া মাহফিল

প্রকাশিত হয়েছে-

মাসুদ : চট্টগ্রাম

১১ বছরে মাহফুজা আক্তার ৯ বছরে ইসরার জাহিন পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন ।চট্টগ্রাম নগরীর প্রাণকেন্দ্র পূর্ব নাসিরাবাদে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নারী ও শিশুদের দ্বীনি ও ইসলামী শিক্ষায় অবদান রেখে চলেছে সুপরিচিত ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উম্মুলকোরা মহিলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠানের বালিকা শাখার শিক্ষার্থী হাফেজা মাহফুজা আক্তার (১১) এবং বালক শাখার শিক্ষার্থী হাফেজ ইসরার জাহিন (৯) অল্প বয়সে পবিত্র কুরআনুল কারিমের হিফজ সম্পন্ন করে হাফেজ ও হাফেজা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। দুই শিক্ষার্থীর এ সাফল্যে তাদের পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠিত হিফজ সমাপনী ও দোয়া মাহফিল সহ মেধা ভিত্তিক দক্ষতা শতভাগ উপস্থিত ছাত্রীদের পুরুস্কৃত করা হয়।১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) কসমোপলিটন আ/এ, রোড-১, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আনাস ছোলতানী সাহেব। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির প্রধান পরিচালক মাওলানা শাইখ আখতার হোছাইন (হাফিজাহুল্লাহ)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক মুফতি আবু বকর সিদ্দিক তানভীর সাহেব।দুই শিক্ষার্থীর এ সাফল্যে আনন্দিত তাদের পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রমের সম্মিলিত প্রয়াসে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে দুই শিক্ষার্থীর হিফজ সম্পন্ন করার সাফল্য উদ্‌যাপনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের মাসিক মেধাতালিকায় স্থান অর্জনকারী এবং শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পুরস্কার বিতরণের আয়োজনও করা হয়।হিফজ সম্পন্ন করে দুই শিক্ষার্থীর অনন্য অর্জন:প্রতিষ্ঠানের বালিকা শাখার শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার, পিতা মোহাম্মদ মাসুদ, ১১ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনুল কারিমের হিফজ সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে বালক শাখার শিক্ষার্থী মাত্র ৯ বছর বয়সে হিফজ সম্পন্ন করে কুরআনের হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। শৈশবেই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার এই সাফল্য তাদের ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। একই সঙ্গে এটি পরিবার, শিক্ষক-
শিক্ষিকা ও প্রতিষ্ঠানের জন্যও আনন্দ ও গর্বের বিষয়। কুরআনের শিক্ষা, নৈতিকতা, শুদ্ধ উচ্চারণ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।দ্বীনি শিক্ষায় ২৬ বছরের পথচলা: উম্মুলকোরা মহিলা একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনি ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা। প্রতিষ্ঠানটিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও নারীবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অভিজ্ঞ ও দক্ষ নারী শিক্ষকদের মাধ্যমে পাঠদান, আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান, হিফজ অনুশীলন এবং শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। হিফজ সম্পন্নকারী দুই শিক্ষার্থীর সাফল্য এ ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।হিফজ সমাপনী ও দোয়া মাহফিল : অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা হিফজ সম্পন্নকারী দুই শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানান এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পবিত্র কুরআনের শুদ্ধ ও নির্ভুল শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে ইসলামী শিক্ষা, নৈতিকতা, শিষ্টাচার এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। কুরআনের শিক্ষা শুধু মুখস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনাচরণে তার আদর্শ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। শৈশব থেকেই সঠিক দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।অভিভাবকদের কৃতজ্ঞতা ও অনুভূতি : সন্তানদের হিফজ সম্পন্ন করার আনন্দে অভিভাবকেরা মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পেছনে শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও নিবেদিত ভূমিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অভিভাবকেরা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অগ্রগতি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁদের মতে, শিক্ষকদের শ্রম, নিষ্ঠা ও আন্তরিক সহযোগিতার অবদান মূল্যায়নের ঊর্ধ্বে। এ অর্জনের পেছনে যাঁরা সময়, শ্রম ও মেধা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।শিক্ষার্থী হাফেজ ইসরার জাহিনের অভিভাবক কান্নায় ভেঙে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিরলস কথা অকৃতীম কৃতজ্ঞ তার সাথে চোখের পানি দিয়ে বরণ করেন আনন্দ অশ্রু জলে স্মরণ করেন। হাফেজা মাহফুজা আক্তারের অভিভাবক পরিবারের এই আনন্দঘন মুহূর্তে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জানান। প্রতিষ্ঠানের নিরলস অপরিসীম অবদান পরিশ্রম সত্যিই কোনভাবেই পরিশোধ যোগ্য নয়। যা একমাত্র উম্মুল কুরা একাডেমির কারণেই সম্ভব হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, পবিত্র কুরআনের শিক্ষা মাহফুজার জীবনকে আলোকিত করবে এবং সে যেন কুরআনের আদর্শ ধারণ করে একজন সৎ, নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি:
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে হিফজ সম্পন্নকারী দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং ভবিষ্যৎ কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁদের পবিত্র কুরআনের প্রকৃত অনুসারী হিসেবে কবুল করেন, কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করেন এবং ইহকাল ও পরকালে সফলতা দান করেন—এ প্রার্থনা জানানো হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রতিষ্ঠান এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মাগফিরাত কামনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান মুহতামিমের মোনাজাতের মধ্য দিয়ে হিফজ সমাপনী ও দোয়া মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। উম্মুলকোরা মহিলা একাডেমির উত্তরোত্তর সাফল্য, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে মহান আল্লাহ তাআলার রহমত ও বরকত কামনা করা হয়।