মোঃ সাইফুল ইসলাম,আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
বিএনপি পালিয়ে যাওয়ার দল নয়, হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না, বিএনপি উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। ১৭ বছর ধরে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও রাজনীতি করে আজকের অবস্থানে এসেছে। বিএনপি পালিয়ে যাওয়ার দল নয়। তাই হুমকি-ধমকি দিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এমন বক্তব্য দিয়েছেন কৃষক দলের নেতারা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করতে কৃষক দল মাঠে থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আনোয়ারা উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দীন সুমনের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব নাজিম উদ্দীন খান ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মহসীন চৌধুরী রানা। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মীর জাকের আহমদ।সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘বিএনপি গত ১৭ বছর ধরে নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে রাজনীতি করেছে। মামলা-হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতা-কর্মীরা মাঠ ছাড়েননি। ধানখেতে থেকেও রাজনীতি করেছেন। তাই কোনো ধরনের হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।তারা আরও বলেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা দেশে ফিরে আসবে-এমন প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দেশে নৈরাজ্য বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় কৃষক দলের নেতা-কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তারা।বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করতে কৃষক দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে ছিলেন আছেন এবং থাকবেন।দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। সমাবেশে উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম মেম্বার, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ ইউচুপ, নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইলিয়াস ও মোহাম্মদ ফোরকানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
এ সময় বৈরাগ ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জসিম কন্ট্রাক্টর, সাধারণ সম্পাদক নাজিম শাহ, বরুমচড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন, বটতলী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল রহমান, রায়পুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুচ এবং বারখাইন ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মোক্তার হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মারুফসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য আবুল মনসুর, আবদুল মতিন, আবদুল কাদের, মোহাম্মদ জাফর, মোজাম্মেল, আবদুর রহিম, আনোয়ার হোসেন, জসিম ড্রাইভার, বাবু নীল কৃষ্ণ চন্দ্র, আবুল কাশেম, নুরুল আমিন, রায়হান, মারুফ, আবু জাহেরসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।সমাবেশ শেষে নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।সমাবেশের শেষ দিকে নেতারা বলেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়ার দল নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কৃষক দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবেন। কোনো হুমকি কিংবা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা তাদের রাজপথ থেকে সরাতে পারবে না।