৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারকি সৈকতের বালুচর কাটার অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান; স্ক্যাভেটর-ড্রেজার জব্দ

প্রকাশিত হয়েছে-

মো. সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকতের বালুচর থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে স্ক্যাভেটর ও ড্রেজারসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের অভিযানে বালু উত্তোলন বন্ধ হলেও উপকূল রক্ষা ও সৈকতের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে পারকি সমুদ্র সৈকতে স্ক্যাভেটর ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। পরে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস ও কর্ণফুলী থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময়কার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাইয়ুম শাহ প্রতিষ্ঠিত লুসাই পার্কের সামনের অংশে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজের জন্য পারকি সৈকতের বালুচর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। তবে লুসাই পার্ক কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাজ এবং এর সঙ্গে পার্ক কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।লুসাই পার্ক অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আলী আকবর বলেন, এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। লুসাই পার্ক এ কাজে জড়িত নয়। পার্কের সামনের অংশে জিও ব্যাগ স্থাপন করা হচ্ছে। এ কারণেই হয়তো অনেকে বিষয়টি পার্কের সঙ্গে যুক্ত করছেন।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পারকি সৈকত এমনিতেই জোয়ারের ঢেউ ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে বালুচর কেটে বালু উত্তোলন করা হলে সৈকতের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভাঙন আরও বাড়তে পারে। এতে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।পারকি সৈকত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, পারকি সৈকত রক্ষার নামে সৈকতের বালু কেটে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বালু উত্তোলনের কারণে সৈকতের বালুচর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভবিষ্যতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সৈকত রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি।অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহিদ বলেন, পারকি সৈকত থেকে ঠিকাদারের লোকজন বালু উত্তোলন করছে এমন তথ্য পাওয়ার পরই কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আনোয়ারা উপকূল রক্ষায় গহিরা, বাইগ্গারঘাট ও উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকায় জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছে। পারকি এলাকায় বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়টি দেখতে কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, পারকি সৈকত থেকে বালু উত্তোলনের খবর পাওয়ার পর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, উপকূল রক্ষার প্রকল্পের আওতায় কোনো কাজ হলেও সৈকতের বালুচর থেকে বালু উত্তোলনের আগে পরিবেশগত ও কারিগরি দিক বিবেচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে পারকি সৈকতের প্রাকৃতিক বালুচর রক্ষা, ভাঙন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটন পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।এখন প্রশ্ন উঠেছে, উপকূল রক্ষার কাজ করতে গিয়ে যদি সৈকতের বালুচরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে পারকি সৈকত রক্ষার দায় নেবে কে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা স্পষ্ট করা হবে।