মোঃ সাইফুল ইসলাম আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের বুড়িপুকুরে আয়োজিত বড়শি উৎসবকে কেন্দ্র করে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উৎসবের বৈধতা, আয়োজন ও অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে উভয় পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাইলধর ইউনিয়নের বুড়িপুকুর একটি শরিকানা পুকুর। চলতি বছরের মার্চে পুকুরটি স্থানীয় সমশু মেম্বারের ছেলে এনামুল হক এবং হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রশিবির নেতা আহসান হাবীব সাব-ইজারা নেন। এর আগে স্থানীয় ইমরান চৌধুরী ইরান মাছ চাষের জন্য পুকুরটি ব্যবহার করলেও পরে দুই বছরের জন্য তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।আয়োজকদের দাবি, ১৭ জুলাই পরীক্ষামূলক বড়শি প্রতিযোগিতায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) উদ্বোধনী আয়োজনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিযোগীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে পুকুরের শরিকদের একজন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের আনোয়ারা থানার সাবেক বহিষ্কৃত সভাপতি ও সাংবাদিক মিজান চৌধুরীর অভিযোগ, বড়শি উৎসবের নামে প্রতিযোগীদের কাছ থেকে প্রতি সিটের বিপরীতে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হচ্ছে, যা মূলত জুয়ার শামিল। তিনি দাবি করেন, পুকুর ইজারার সময় এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও আনোয়ারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।অন্যদিকে ইজারাদার এনামুল হক ও আহসান হাবীব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শরিকদের প্রতিনিধি, সাবেক প্রধান শিক্ষক বখতিয়ার মাহমুদ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করেই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি একটি সামাজিক ও বিনোদনমূলক আয়োজন। উৎসব সফল করার জন্য স্থানীয়রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি গত জুমার নামাজের পর বুড়িপুকুর জামে মসজিদে আয়োজনের সফলতা কামনা করে দোয়ারও আয়োজন করা হয়।
ইজারাদারদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার মিজান চৌধুরী কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতার জন্য নির্মিত সিট ভাঙচুর করেন এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেন। এ ঘটনায় তারা আনোয়ারা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে মিজান চৌধুরীও অশ্লীল কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।আনোয়ারা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মজনু মিয়া বলেন, উভয় পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। একটি অভিযোগে বড়শি উৎসবের বিষয়ে আপত্তির কথা বলা হয়েছে। অপর অভিযোগে সিট ভাঙচুর ও হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে বড়শি উৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নজরদারি জোরদার করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিরোধের সমাধান না হলে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।