২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের নতুন নিদর্শন আনোয়ারা চায়না ইকোনমিক জোন

প্রকাশিত হয়েছে-

মোঃ সাইফুল ইসলাম আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (CEIZ)। সরকারের প্রত্যাশা, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল দেশের শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। তাঁর আশা, এ প্রকল্পে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পরিবর্তে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ আসতে পারে।সোমবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের বিকল্প নেই। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে শিল্পায়নই হবে প্রধান চালিকাশক্তি এবং সেই যাত্রায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা সংস্কার করেছে। ব্যবসা সহজীকরণ, দ্রুত সেবা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের শিল্প অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করা হচ্ছে।অর্থমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে আধুনিক ও পরিবেশসম্মত শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আবাসন ও কল্যাণমূলক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অপরিহার্য। সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, চায়না ইকোনমিক জোনের উদ্বোধন বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং টেকসই উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (CRBC) সঙ্গে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা যেখানে পাঁচ বছর সময়ের কথা বলেছিলেন, সেখানে আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই প্রথম কারখানায় উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।সরকার ও চীনের সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) সহযোগিতার আওতায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে প্রায় ৮০০ একর জমিতে গড়ে উঠছে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। এখানে আন্তর্জাতিক মানের সড়ক, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), জেটি, গুদাম ও আধুনিক লজিস্টিক সুবিধাসহ পূর্ণাঙ্গ শিল্প অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এক লাখের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, গার্মেন্টস, প্রকৌশল, রাসায়নিকসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পে বড় আকারের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। এতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শিল্প ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি দেশের রপ্তানি আয় ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের চেয়ারম্যান ওয়েন বেয়িং, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান লি চেংগিই, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক, আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ(বেজা)ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজকরপোরেশনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ অতিথিরা নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদনের নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো।