২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা বছর চালু থাকবে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের ঘোষণা শিল্পমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে-

মো. সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রায়ত্ত সব সার কারখানা সারা বছর সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদীর।সোমবার (২২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়া এলাকায় অবস্থিত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।শিল্পমন্ত্রী বলেন, অতীতে বছরের উল্লেখযোগ্য সময় গ্যাস সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলো উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে জাতীয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। সরকার এখন সার কারখানাগুলোকে সারা বছর সচল রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোর বিদ্যমান সমস্যা সরেজমিনে পর্যালোচনা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাই করতে আমরা পরিদর্শনে এসেছি। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।সিইউএফএলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, কারখানাটির অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অনেক পুরোনো। ফলে যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে, তার তুলনায় উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে না। উৎপাদন বাড়াতে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।পরিদর্শনকালে শিল্পমন্ত্রী কারখানার ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।এ সময় সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান কারখানার বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দুর্বলতার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অ্যামোনিয়া প্লান্টের বয়লারগুলো প্রায় ৪০ বছর আগে জাপান থেকে আমদানি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেগুলো জোড়াতালি দিয়ে সচল রাখা হচ্ছে। বয়লারগুলো আধুনিকায়ন করা গেলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো সম্ভব হবে। এমনকি সিইউএফএলের নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে ডিএপি সার কারখানায়ও অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”পরিদর্শন শেষে শিল্পমন্ত্রী সিইউএফএলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।এর আগে দুপুরে তিনি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে দেশের একমাত্র ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানাও পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বিসিআইসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফজলুর রহমান, কাফকোর সিসিও খাজা সাইদুর রহমান, সিওও আব্দুল্লাহ ফারুক, ডিএপি সার কারখানার জিএম (অপারেশন) আব্দুল জলিল, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন, আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ জুনায়েত চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এবং পুরোনো যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন করা সম্ভব হলে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে দেশের কৃষি খাতে সার সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে এবং আমদানি ব্যয়ও কমে আসবে।