১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আনোয়ারায় নৃশংস জোড়া খুন: মৃত্যুর আগে ঘাতকের নাম বলে গেলেন মা

প্রকাশিত হয়েছে-

মোঃ সাইফুল ইসলাম আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় পাওনা টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে এক নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড। উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়ায় প্রতিবেশী এক যুবকের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন মা ও মেয়ে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে পরিবারের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত হয়েছে এনি বড়ুয়ার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে পিয়াস বড়ুয়া। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয় পালিয়ে যায়। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় পরিবারের কর্তা সুজন বড়ুয়া কর্মস্থলে ছিলেন। এ সুযোগে অভিযুক্ত লিমন বড়ুয়া ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে। প্রথমে কিশোরী প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার ওপর হামলা চালায়। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে মা এনি বড়ুয়াকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলাকারীর ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হয় পাঁচ বছর বয়সী শিশু পিয়াসও।আহতদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ঘাতক ঘরের পেছনের পথ দিয়ে পালিয়ে যায়।প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া বলেন, “রাতে চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি এনি বড়ুয়া ও তার ছেলে পিয়াস ঘরের দরজার সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার নিথর দেহ দেখতে পাই। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ঘটনাস্থলেই প্রিয়ন্তীর মৃত্যু হয়। কিছুক্ষণ পর এনি বড়ুয়ারও মৃত্যু হয়।”নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া জানান, তিনি চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জ এলাকার একটি আবাসিক ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত লিমন বড়ুয়ার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন ছিল।তিনি দাবি করেন, “আমি তিন দফায় লিমনকে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। টাকা দেওয়ার সময় তিনটি স্ট্যাম্পও নিয়েছিলাম। ওই টাকা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে বিরোধ চলছিল। আমার ধারণা, সেই বিরোধের জের ধরেই আমার স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”সুজন বড়ুয়া আরও বলেন, “আমি শহরে কর্মস্থলে ছিলাম। রাতে বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি স্ত্রী ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। মৃত্যুর আগে আমার স্ত্রী হামলাকারী হিসেবে লিমন বড়ুয়ার নামও  উল্লেখকরেছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটি অত্যন্ত নৃশংস ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। আশা করছি খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পাওনা টাকা ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।