৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কান্দরিয়া খাল পুনঃখননে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা, ১০০ একর জমিতে তিন ফসলি চাষের সুযোগ

প্রকাশিত হয়েছে-

সাইফুল ইসলাম ( আনোয়ারা)

দীর্ঘদিনের দখল ও ভরাটে অস্তিত্ব সংকটে পড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কান্দরিয়া খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির পুনঃখনন কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চাতরী, মোহাম্মদপুর ও বৈরাগ এলাকার প্রায় ১০০ একর কৃষিজমিতে তিন ফসলি চাষের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চার কিলোমিটার খালের মধ্যে প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে খননযন্ত্রের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট এক কিলোমিটার অংশে শ্রমিকের মাধ্যমে খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্প অনুযায়ী প্রতিদিন ২৮৭ জন শ্রমিকের সাত ঘণ্টা করে কাজ করার কথা থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ সংকট, পানি নিষ্কাশন সমস্যা এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দিত। ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হতেন। পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উমা খান কাফি বলেন, কান্দরিয়া খালের পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তবে খালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনার কারণে খননকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন অংশে খননযন্ত্র ও শ্রমিকরা একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, বহু বছর পর খালটি তার পুরোনো রূপ ফিরে পেতে শুরু করেছে।মোহাম্মদপুর এলাকার কৃষক এয়ার মোহাম্মদ বলেন, একসময় এই খাল ছিল এলাকার কৃষির প্রাণ। ধীরে ধীরে দখল ও ভরাটের কারণে খালের অস্তিত্ব প্রায় হারিয়ে যায়। এখন সরকার পুনঃখনন করায় আমরা আশাবাদী। খালটি সচল হলে তিন ফসলি চাষ সম্ভব হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, কান্দরিয়া খালের চার কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রায় ১০০ একর জমিতে তিন ফসলি চাষের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাও কমে আসবে।স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের আশা, দ্রুত পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে এলাকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।