সাইফুল ইসলাম, (আনোয়ার চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুল আলোচিত শিশু শিক্ষার্থী গণধর্ষণ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি মোহাম্মদ ফারুক (২৪) কে গ্রেপ্তার করেছে আনোয়ারা থানা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা থানার মামলা নং–০৩, তারিখ: ০২ মে ২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত–২০০৩) এর ৯(৩) ধারায় দায়ের হওয়া মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভিকটিম (ছদ্মনাম) নারগিছ আক্তার (১৪) আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের একটি আলীম মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ রাতে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে সে অভিযুক্তদের কবলে পড়ে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে এক আসামি কৌশলে ভিকটিমকে একটি দোকানঘরে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে যৌন নির্যাতন করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি গোপন রাখার চাপ সৃষ্টি করে তাকে অন্য আসামিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পার্শ্ববর্তী নির্জন এলাকায় নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভিকটিমকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলার বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, আবু তাহের (৪২), রবিউল হোসেন ওরফে চুমকিয়া (২৪), মোহাম্মদ ফারুক (২৪) ও আনোয়ার হোসাইন (২২)।পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোপন সংবাদের বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক নজরদারির অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম এর সার্বিক দিকনির্দেশনায়, আনোয়ারা সার্কেলের তত্ত্বাবধানে, আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ জুনায়েত চৌধুরী ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মজনু মিয়া এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়েঝ রাউজান থানাধীন পাহাড়তলী মহামুনি এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি মোহাম্মদ ফারুককে গ্রেপ্তার করে।পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এদিকে, শিশু শিক্ষার্থীকে ঘিরে নৃশংস এ ঘটনার খবর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।