২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আনোয়ারায় চাঞ্চল্যকর সিএনজি চালক সাজ্জাদ হত্যা মামলায় আরও এক আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত হয়েছে-

মোঃ সাইফুল ইসলাম: চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সিএনজি চালক সাজ্জাদ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।গ্রেফতারকৃত আসামির নাম এস.এম আবুল বশর (৪৮)। তাকে আন্তঃজেলা সিএনজি চোর ও ছিনতাইচক্রের সক্রিয় সদস্য বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাজ্জাদ (২২) পেশায় একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও কুলালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. নাছির ড্রাইভারের ছেলে।গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে নিজ বাড়ি থেকে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে আনোয়ারা থানাধীন বরুমছড়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকার একটি ফিশারির পুকুরপাড়ের নিচে পানির ভেতর থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. নাছির ড্রাইভার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করলে বাংলাদেশ পুলিশ এর আনোয়ারা থানা মামলা নং-১১, তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করে।পুলিশ জানায়, দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এর আগে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সাতজন এবং নিহতের সিএনজি ক্রেতাসহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।তদন্তের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জুনায়েত চৌধুরী এর তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এসআই শিমুল চন্দ্র দাস, এসআই ইমাম হোসেন, এএসআই মো. নুরুল আফছারসহ পুলিশের একটি দল বুধবার (২০ মে) গভীর রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী এলাকার জহুর হকার্স মার্কেটের সামনে থেকে এস.এম আবুল বশরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।তদন্তে পুলিশের কাছে উঠে এসেছে, গ্রেফতারকৃত আবুল বশর স্বল্পমূল্যে ছিনতাই বা চুরি হওয়া সিএনজি কিনে সেগুলোর রূপ পরিবর্তন করে অধিক মূল্যে বিক্রি করতেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগরের বিভিন্ন সিএনজি চোরচক্রের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।পুলিশের দাবি, তিনি শুধু চোরাই সিএনজি বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, বরং গ্রেফতার হওয়া আন্তঃজেলা চোর ও ছিনতাইকারী সদস্যদের আদালত থেকে জামিনে মুক্ত করার ব্যবস্থাও করতেন। পরে তাদের পুনরায় একই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার অভিযোগও উঠে এসেছে তদন্তে।
পুলিশ জানিয়েছে, বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত আছে।