৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাতরী চৌমুহনীতে উচ্ছেদ অভিযান: দখলমুক্ত সড়কে স্বস্তির আশা, স্থায়ী সমাধান চান স্থানীয়রা

প্রকাশিত হয়েছে-

সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ব্যস্ততম চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমি দখলমুক্ত করতে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনার কারণে ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তির আভাস। তবে এই উদ্যোগকে সাময়িক না রেখে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাতরী চৌমুহনী থেকে সিইউএফএল সড়ক পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অংশটি বহু বছর ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সরকারি জমিতে গড়ে ওঠে অসংখ্য অস্থায়ী ও আধা-পাকা দোকানপাট একাধিকবার প্রশাসনের নোটিশ দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করে দখলদাররা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যায়। এতে করে সড়কের প্রস্থ সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং প্রতিদিন সৃষ্টি হতো তীব্র যানজট।
বিশেষ করে অফিস সময় ও বাজারকেন্দ্রিক ব্যস্ত সময়ে এই সড়কটি প্রায় অচল হয়ে পড়ত। অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র মালামাল ফেলে রাখা এবং দখল করা ফুটপাতের কারণে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দখলদারদের প্রভাবের কারণে অতীতে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানগুলো টেকসই হয়নি।সাম্প্রতিক এই উচ্ছেদ অভিযানে সওজ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। এতে সড়কের দৃশ্যমান প্রশস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আনোয়ারা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে এবং চাতরী চৌমুহনী এই অঞ্চলের প্রধান প্রবেশপথ। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে তারা চরম দুর্ভোগে ছিলেন। বর্তমান উচ্ছেদ অভিযানকে তারা স্বাগত জানালেও এটি যেন সাময়িক না হয়ে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা হয় এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।এলাকাবাসী আরও জানান, শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, পুনরায় দখল ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি, মনিটরিং এবং আইনগত কঠোরতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থা ও ফুটপাত উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন তারা।এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পারভেজ বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ কমানো এবং সড়ককে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা চাই সড়কের সম্পূর্ণ জায়গা দখলমুক্ত রেখে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চাতরী চৌমুহনীসহ আনোয়ারার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, নিয়মিত তদারকি এবং দখলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে পারলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ কমে এসে স্বস্তি ফিরবে সাধারণ মানুষের জীবনে।