১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আনোয়ারায় দিনে-দুপুরে ফসলি জমির মাটি বিক্রি: এমপির হুঁশিয়ারিতেও থামছে না সিন্ডিকেট

প্রকাশিত হয়েছে-

মোঃ সাইফুল ইসলাম
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কঠোর হুঁশিয়ারির পরও থামছে না মাটি কাটার এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। প্রশাসনের নজরদারির ফাঁক গলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগে রাতের আঁধারে গোপনে মাটি কাটার ঘটনা ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা একেবারে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। উপজেলার বিলপুর বিল, বারখাইন এলাকার গফ্ফার চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের বিল, রায়পুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে এখন দিনের আলোতেই চলছে টপসয়েল কেটে বিক্রি।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই মাটি কাটা, বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও অভিযানে গিয়ে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের খবর আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মাটি কাটার সাথে জড়িতরা যন্ত্রপাতি ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে জব্দ হয় কেবল এক্সকাভেটরসহ কিছু সরঞ্জাম, ধরা পড়ে না মূল হোতারা।অভিযোগ রয়েছে, রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে কাটা টপসয়েল সরাসরি ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া পুকুর খনন বা কবরস্থানের উন্নয়নের নামে অনুমতি নিয়ে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির ঘটনাও ঘটছে।এদিকে, মাটি বহনকারী ডাম্প ট্রাক থেকে সড়কে পড়ে থাকা কাদামাটি সামান্য বৃষ্টিতেই পিচ্ছিল হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। কয়েকদিন আগে হালকা বৃষ্টিতেই রায়পুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, ব্যাহত হয় যান চলাচল।স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা চালক মহিম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। খুব সাবধানে গাড়ি চালাতে হয়, অনেক যাত্রী ভয় পেয়ে উঠতেই চায় না।বারখাইন এলাকার কৃষক নুরুজ্জামান অভিযোগ করেন, প্রলোভন দেখিয়ে জমির মাটি নিচ্ছে। দুই-তিন হাত কাটার কথা বলে ১০-১২ হাত গভীর করে ফেলে। এতে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে।এ বিষয়ে সদ্য যোগদান করা আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, মাটি খেকোদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের চোখের সামনে দিনের আলোতে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কেন কার্যকরভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষিজমি রক্ষা ও জনভোগান্তি নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।